A story

বিকেল বেলায় একটা ফোন আসলো। “পাঁচ মিনিটের ভেতর ইবলিশে চলে আয়! সে এসেছে।”  :3
জোরাজোরি করে দশ মিনিট সময় নিলাম। বললো, “ঘরে যা পরে আছিস তা পরেই চলে আয়, সন্ধ্যা হয়ে এসছে, এখোনি চলে যাবো আমরা। রিকশা নিবি।”
আমি আমার সবচেয়ে সুন্দর জামাটা পরলাম।সাজারও চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু কেমন হয়েছিলো মনে নেই। শুধু মনে আছে খুব নার্ভাস লাগছিলো। ( পরে অবশ্য ও বলেছিলো, আমি নাকি ওর তাঁর সাথে নিজেকে মনে মনে তুলনা করেছি বলেই সাজার চেষ্টা করেছিলাম, সুন্দরতম জামাটা পরেছিলাম, যা সাধারণত করি না।)
মোটামুটি দৌড়দিয়ে পাঁচতলা মেস থেকে নিচে নামলাম। ও রিক্সা নিতে বললেও হেঁটেই গেছিলাম। মাথার ভেতরে কী চলছিলো মনে নেই, ভয়-ভয় লাগছিলো সম্ভবত।
যথারীতি চশমা পরে যাইনি। ( যখন নিজেকে একটু সুন্দর দেখানোর চেষ্টা করি তখন চশমা পরিনা আমি যদিও আমি যথেষ্ট কানা!) ফোন দিলাম। বললো, ইবলিশ পুকুরপাড়ে বসে আছে, আমাকে দেখেছে। ওরা দুজন পাড়ছেড়ে রাস্তায় উঠে এলো। আমি দেখলাম তাঁকে। প্রথমে ঝাপসা, ধীরে ধীরে স্পট হলো।
যতদূর মনে পড়ে সাদা সালোয়ার কামিজ পরে ছিলো, এলো চুল, কোমর অব্দি, সুন্দর-ফর্সা মুখ। আর ওর মুখ হাসিতে উচ্ছল। ওদের মনে হচ্ছে, made for each other. হিংসা হলো, বাট মানতে হবে, এতো সুন্দর কাপল বহুদিন দেখিনি।
ও তাঁর সাথে পরিচয় করে দিলো। আমি মুখ টিপে হাসলাম, কিছুই বললাম না। সম্ভবত ঐদিন ঐমেয়ের সাথে আর কোনো কথাই হয়নি।
কাজলা গেট উদ্দেশ্য করে হাঁটা ধরলাম আমরা। ও বকবক করে গেলো। মেয়েটাও বলছিলো। প্রেমালাপ। একসময় আমাকে লক্ষ্য করে বললো, “ও কি কম কথা বলে?” ও বললো, “হুম!” চুপ থাকলাম। নিজেকে অপ্রাসঙ্গিক মনে হচ্ছিলো ওদের মাঝে।
আমার ততক্ষণে কথা বলার সব ইচ্ছাই ফুরিয়ে গেছে। মেইনরোডে উঠে কোনোমতে বিদায় জানিয়ে রুমে চলে এলাম। এখনো মনে আছে, অসহ্য লাগছিলো।
ঐমূহুর্তে এই প্যাথেটিক কবিতাটা কেমনে কেমনে যেন হাতে চলে এলো। শেয়ার দিলাম। যেন অনেকটা প্রচন্ড রাগে কাঁচের গ্লাস ছুড়ে মারার মতো, ভাঙ্গার শব্দে রাগ কমে আসে।
তখন এ কবিতা শেয়ার দিয়ে রাগ কমেছিলো কিনা মনে নেই, তবে এটা মনে আছে, ঐদিনের পর ঐমেয়ে ওকে আমার সাথে মিশতে নিষেধ করে দিয়েছিলো, যাকে বলে রীতিমত আল্টিমেটাম! এতে আমি খুব মজা পেয়েছিলাম।  😛 

ভুল প্রেমে কেটে গেছে তিরিশ বসন্ত, তবু
এখনো কেমন যেন হৃদয় টাটায়- প্রতারক
পুরুষেরা এখনো আঙুল ছুঁলে পাথর শরীর
বয়ে ঝরনার জল ঝরে।
এখনো কেমন যেন কল কল শব্দ শুনি
নির্জন বৈশাখে, মাঘ-চৈত্রে- ভুল প্রেমে
কেটে গেছে তিরিশ বসন্ত, তবু
বিশ্বাসের রোদে পুড়ে নিজেকে অঙ্গার
করি।
প্রতারক পুরুষেরা একবার ডাকলেই ভুলে
যাই পেছনের সজল ভৈরবী ভুলে যাই
মেঘলা আকাশ, না-ফুরানো দীর্ঘ রাত।
একবার ডাকলেই
সব ভুলে পা বাড়াই নতুন ভুলের দিকে
একবার ভালোবাসলেই
সব ভুলে কেঁদে উঠি অমল বালিকা।
ভুল প্রেমে তিরিশ বছর গেল সহস্র বছর
যাবে আরো,
তবু বোধ হবে না নির্বোধ বালিকার।
(তসলিমা নাসরিন)

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s